HSC ICT Chaper 1 Part 2

HSC ICT Chapter 1 Part 2 : বিশ্বগ্রাম কি? বিশ্বগ্রামের ধারণা (Concept of Global Village) লিখ? | ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (Virtual Reality-VR) কি? | কৃতিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence-AI) কি? | রোবট (Robot) কি? | ক্রেয়ােসার্জারি (Cryosurgery) কি? | বয়ােমেট্রিক্স (Biometrics) কি? | ই-কমার্স (E-Commerce) কি? | ই-কমার্সের প্রকারভেদ (Types E-Commerce) কি? | ই-ব্যাংকিং (E-Banking) কি? | ই-গর্ভনেন্স (E-Governance) কি? | এম কমার্স (M-Commerce) কি? | মোবাইল ব্যাংকিং (Mobile Banking) কি?


বিশ্বগ্রাম কি? বিশ্বগ্রামের ধারণা (Concept of Global Village) লিখ?

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসাকে Global Village বলে।
সর্বপ্রথম কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক “মারশেল-ম্যাকলুহান (Marshal | McLuhan) 1962 সালে Gutenberg ও 1964 সালে Galaxy Understanding Media -তে বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন।ম্যাকলুহান এর মতে, “বিশ্বগ্রাম হল একটি ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যম যা বিশ্বকে অতি সহজেই একে অপরের সাথে যােগাযােগ করতে পারে।" (Global village is known as a electric media communication form of a village where the countries live like families.)

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ(Elements of Establishing Global Village)

  • নেটওয়ার্ক সংযুক্ততা (Internet Connectivity) ।
  • হার্ডওয়্যার (Hardware) ।
  • সফটওয়্যার (Software) ।
  • ডেটা (Data) ।
  • মানুষের সক্ষমতা (Capacity), ইত্যাদি ।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (Virtual Reality-VR) কি?

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা VR হলো সেই প্রযুক্তি যা কম্পিউটার সিমুলেশনের ওপর প্রতিষ্টিত যা ত্রিমাত্রিক (3D) বিশ্ব সৃষ্টি, যার দৃশ্যমান ২ তে অর্থাৎ বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা সৃষ্টিকারী ।

ব্যবহারঃ

  • চিকিৎসাতে ।
  • শিক্ষাতে ।
  • সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ।
  • গবেষণায় ।
  • সিনেমা ও বিজ্ঞাপন তৈরিতে ইত্যাদি।

কৃতিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence-AI) কি?

কৃতিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি প্রকৌশলী বিদ্যা যার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে যৌক্তিক চিন্তা, জ্ঞান, পরিকল্পনা, শিক্ষণ, যােগাযােগ, উপলব্ধি এবং বস্তুকে নড়াচাড়া করার সামর্থ দেয়া হয়।

বুদ্ধিমত্তাকে প্রয়ােগ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের programming language ব্যবহার করা হয়। যেমন2. CLISP, PROLOG, C/C++, Java, ইত্যাদি।

IBM- ডিপ ব্লু হল- প্রথম পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যন্ত্র । বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলােচিত বাংলাদেশে Ember 6, 2017) আসা হংকং ভিক্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রােবােটিক্স কর্তৃক নির্মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ যন্ত্র হচ্ছে সােফিয়া । সােফিয়া পৃথিবীতে প্রথম রােবট সিটিজেন (সৌদি আরব- October 26, 2017)। কৃতিম বুদ্ধিমত্তা এর জনক: অ্যালান টুরিং (Alan Turing)।


রোবট (Robot) কি?

রােবট অর্থ হলাে- যন্ত্র মানব। পােলিশ শব্দটি Rolpotnik থেকে এসেছে। বােৰট হলাে- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র মানব যা মানুষের অনেক দুঃসাধ্য ও কঠিন কাজ করতে সক্ষম।

একটি সাধারণ রােবটে সাধারণত নিম্নোক্ত উপাদানগুলাে থাকে:-

  1. পাওয়ার সিস্টেম (Power System) ।
  2. মুভেবল বডি (Movable Body) ।
  3. ইলেকট্রিক সার্কিট (Electric Circuit) ।
  4. মস্তিষ্ক বা কম্পিউটার (Brain or Computer) ।
  5. অ্যাকচুয়েটর (Actuator) ।
  6. অনুভূতি (Sensing) ।
  7. ম্যানিপিউলেশন বা পরিবর্তন করা (Manipulation), ইত্যাদি ।

রােবট এর প্রয়ােগক্ষেত্র/ব্যবহার (Application of Robotics) :-

  1. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ।
  2. মহাকাশে, সমুদ্রের তলদেশে ।
  3. নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ।
  4. যানবাহন ও গাড়ি তৈরি কারখানায়। ।
  5. অনুসন্ধান, গবেষণা, নতুন নতুন আবিষ্কারে, বিনােদনে, ইত্যাদিতে।

ক্রেয়ােসার্জারি (Cryosurgery) কি?

এটি গ্রিক শব্দ 'Cryo’ অর্থ ঠান্ডা থেকে এসেছে এবং Surgery অর্থ হাতের কাজ। অতি ঠান্ডায় অস্বাভাবিক ও অসুস্থ টিস্যু বা কোষের জীবাণু ধংসের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে cryotheapy/cryosurgery বলে। এটি ব্যবহার ক্ষেত্রানুযায়ী -20°C থেকে -140°C তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

ব্যবহার:-

  • সব ধরনের টিউমার সনাক্তকরণে
  • ক্যান্সার চিকিৎসায়
  • চোখের রেটিনার বিচ্যুতিরও চিকিৎসা করা যায়, ইত্যাদিতে।

বয়ােমেট্রিক্স (Biometrics) কি?

বয়ােমেট্রিক্স (Biometrics) শব্দটি Bio-অর্থ জীবন আর Metric-অর্থ পরিমাণ। Biometrics হলাে এমন প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যাক্তির বায়োলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্ত বা চিহ্নিত করা হয়। বায়ােমেট্রিক্স মূলত দুই প্রকার। যথা

  • শারীরিক বায়ােমেট্রিক্স সিস্টেম বা পদ্ধতি (physiological biotnetrics)।
  • আচরনগত বায়ােমেট্রিক্স সিস্টেম বা পদ্ধতি (behavioral biometrics)।

সাধারণত ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য, ফাইল, সফ্টওয়্যার, ই-মেইল, ইত্যাদির মাধ্যমে এক কম্পিউটার হতে অন কম্পিউটারের সংযুক্তির ফলে ভাইরাস আক্রমণ হতে পারে।

ব্যবহারঃ-

  • মৃতদেহ ও অপরাধ সনাক্তকরণে।
  • পরিচয় পত্র ও পাসপাের্ট তৈরিতে।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ভােটার তালিকা করতে।
  • ইন্টারনেট ব্যাংকিং এ ।
  • অনাধিকার প্রবেশ রােধে ও ই-কমার্স এ, ইত্যাদিতে।

ই-কমার্স (E-Commerce) কি?

ই-কমার্স (E-Commerce) এর পূর্ণরূপ- ইলেকট্রনিক কমার্স । বর্তমানে ব্যবসায়িক জগতে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে । বর্তমান যুগের ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য, সেবা ও তথ্য ক্রয় বিক্রয়, হস্তান্তর বা বিনিময় করাকেই ই-কমার্স (E-Commerce) বলে । বিভিন্ন লেখক ই-কমার্স (E-Commerce) কে বিভিন্নভাবে সঙ্গায়িত করেছেন।

  • Kenneth C. Laudon & Carol Guerclo Traver এর মতে, “ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিজেদের সাথে বা একে অপরের সাথে বাণিজ্যিক লেনদেনই হল ই-কমার্স।" ("E-Commerce is digitally enabled commercial transactions between and among organizations and individuals.")
  • জেমস এ ব্রেইন (James A. Brien) এর মতে, “পণ্য বা সেবার উৎপাদন, মার্কেটিং, ডেলিভারি, সার্ভিসিং এবং মূল্য পরিশােধের অনলাইন সামগ্রিকভাবে ইলেকট্রনিক ই-কমার্স বলে।" ("Electoronic commerce encompasses the entire online process of developing Marketing, selling, delivering, servicing and paying for products and services.")

পরিশেষে, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করাকে ই-কমার্স বলে।

ই-কমার্সের সুবিধাসমূহ (Advantages of E-Commerce):

  • ব্যবসার মান বিশেষভাবে উন্নয়ন করা যায়।
  • ই-কমার্স কোন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
  • ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সহজে সু-সম্পর্ক তৈরি করা যায়।
  • ই-কমার্স সময় বাঁচায় এবং অতি দ্রুত পণ্য ভােক্তার কাছে পৌঁছায়।
  • যােগাযােগ খরচ কমায় ।
  • পণ্য ও সেবার মান উন্নয়ন করা যায়।
  • উন্নত ভােক্তা সুবিধাসহ অনেক সুবিধা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের অনেক খরচ কমিয়ে আনে।

ই-কমার্সের প্রকারভেদ (Types E-Commerce) কি?

ইন্টারনেট, এক্সট্রানেট এবং ইন্ট্রানেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায়, ভোক্তা এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মধ্যে সংযোগ সাধন করা হয় । সেবা ও পন্য লেনদেনর মাধ্যমে ই-কমার্স কে সাধারণত ৪ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা যায় । যথা -- নকে সাধারণত চটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা।

  1. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to Business: B2B)
  2. ব্যবসা থেকে ভোক্তা (Business to Consumer: B2C)
  3. ভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consume to Business: C2B)
  4. ভােক্তা থেকে ভােক্তা (Cons৷৷৷nel to Consumer; C2C)

উপরের শ্রেণিবিভাগ ছাড়াও নন-বিজনেস নামে একটি ই-কমার্স দেখা যায়। যেমন- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদি।


ই-ব্যাংকিং (E-Banking) কি?

ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন-লাইনে ব্যাংকের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আর্থিক লেনদেন পদ্ধতিকে বলা হয় ই-ব্যাংকিং। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ই-ব্যাংকিং পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয় ।

যেমন- ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সিস্টেম হচ্ছে ই-ব্যাংকিং পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।


ই-গর্ভনেন্স (E-Governance) কি?

ই-গর্ভনেন্স (e-governance) পূর্ণরূপ- ইলেকট্রনিক গর্ভনেন্স (electronic governance)।

এটা এমন একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা যা সরকারের কর্মকান্ড ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাইজড আকারে রূপান্তরিত হয়ে জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি যােগসূত্র স্থাপন করে। ডিজিটালাইজড ইনফরমেশন তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমের সাহয্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শেয়ার করতে পারে।

ই-গভর্নেন্স মূলত নিম্নলিখিত কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়:

  • ফাইল ডিজিটালাইজেশন করতে।
  • ডেটাবেইজের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ করতে।
  • বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে।
  • ওয়েৰ ৰা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ করতে।
  • বিভিন্ন ওয়েব ভিত্তিক সার্ভিস প্রদানে যেমন- বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বিল পরিশােধ, দরপত্র প্রক্রিয়াক, ইত্যাদিতে।

এম কমার্স (M-Commerce) কি?

এম কমার্স (n-commerce) বা মােবাইল কমার্স (Mobile Commerce) হলাে এমন একটি ব্যবসায়িক সিস্টেম (পণ্য ও সেবার ক্রয় বিক্রয়) যা তারবিহীন বা ওয়ারলেস (wireless) পরিবেশে সংঘঠিত হয়। অর্থাৎ ওয়ারলেস ডিজিটাল ও ওয়ারলেস এপ্লিকেশন প্রােটোকলের সাহায্যে সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্রয়-বিক্রয় এম কমার্স বলে। এম কমার্স ব্যাংকিং, টিকেট ক্রয়, আবহাওয়া ও ভ্রমণ তথ্য ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্য শেয়াৰ কৰা ই-মেইল, ম কমার্স প্রধানত ব্যাংকিং টি ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করে থাকে।


মোবাইল ব্যাংকিং (Mobile Banking) কি?

তারবিহীন টেলিকমনিকেশন ব্যবস্থায় মােবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে ব্যাংকের সাথে যােগাযােগ প্রতিষ্ঠা, তথ্য আদান প্রদান ও আর্থিক লেনদেন করাকেই মােবাইল ব্যাংকিং বলে। এটি একটি নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে সহজেই লেনদেন সম্পাদন করা যায় । এ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় SMS এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক ব্যালেন্স দেখতে ও ফান্ড স্থানান্তর করতে পারে।